1. admin@sylhetbhumi24.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে ৫ প্রতিষ্টানে জরিমানা শ্রীমঙ্গল লোকনাথ মন্দিরে শীত বস্ত্র বিতরণ কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া বন থেকে মানবদেহের কঙ্কাল উদ্ধার কমলগঞ্জে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে অনিয়মের দায়ে ৪ প্রতিষ্টানকে জরিমানা শ্রীমঙ্গলে স্কুলছাত্রের উপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন মৌলভীবাজারে ট্রাফিক পুলিশের জন্য ব্যারাকের উদ্বোধন মৌলভীবাজারে ফিরছে করোনা, নতুন করে আক্রান্ত ২৯ জন কমলগঞ্জে জলাশয় থেকে নারীর মৃতদেহ উদ্ধার বিশ্বভালবাসা দিবসে আসছে চৌধুরী কামাল ও সালমার দ্বিতীয় ভার্সন প্রাণনাথ-২ জাতীয় সংসদে সভাপতিমন্ডলীর তালিকায় প্রথমস্থানে উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি
শিরোনাম :
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে ৫ প্রতিষ্টানে জরিমানা শ্রীমঙ্গল লোকনাথ মন্দিরে শীত বস্ত্র বিতরণ কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া বন থেকে মানবদেহের কঙ্কাল উদ্ধার কমলগঞ্জে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে অনিয়মের দায়ে ৪ প্রতিষ্টানকে জরিমানা শ্রীমঙ্গলে স্কুলছাত্রের উপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন মৌলভীবাজারে ট্রাফিক পুলিশের জন্য ব্যারাকের উদ্বোধন মৌলভীবাজারে ফিরছে করোনা, নতুন করে আক্রান্ত ২৯ জন কমলগঞ্জে জলাশয় থেকে নারীর মৃতদেহ উদ্ধার বিশ্বভালবাসা দিবসে আসছে চৌধুরী কামাল ও সালমার দ্বিতীয় ভার্সন প্রাণনাথ-২ জাতীয় সংসদে সভাপতিমন্ডলীর তালিকায় প্রথমস্থানে উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি

পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ দাসের অপকর্মের শেষ নেই

ডেস্ক রিপোর্ট।।
  • সময় : সোমবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৪৯ ৯৮ বার পঠিত

নারী কনস্টেবলসহ আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাসের বিরুদ্ধে অধ:স্তন নারী কর্মকর্তার সাথে দুর্ব্যবহার, উপ-পরিদর্শকদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি কৌসুলির সাথেও করেছেন খারাপ আচরণ। অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকান্ডের পর কক্সবাজার থেকে বদলি সূত্রে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)-তে যোগ দেন পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাস পিপিএম। সিলেটে যোগদানের পরও চালিয়ে যান একের পর এক অপকর্ম। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে এসএমপি’র জনৈক কনস্টেবলের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় তাকে পাওয়া যায় । সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বি এম আশরাফ উল্লাহ তাহের জানান, নারী কনস্টেবলসহ আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়ার পর তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে সে এসএমপি’র পুলিশ লাইনে সংযুক্ত রয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ সিলেটের ডাককে জানিয়েছেন, প্রদীপ কুমার দাস বর্তমানে ক্লোজড। নারী কনস্টেবলকেও ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটি সদস্যরা প্রতিবেদন জমা দেবেন। প্রতিবেদনটি আমরা পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়ে দেব। পরিদর্শক প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দপ্তর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কনস্টেবলের বিরুদ্ধে এসএমপি থেকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাস সিলেট আদালতে এসএমপি’র কোতোয়ালি মডেল থানা ও জালালাবাদ থানার কোর্ট পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। এই ২ থানার মামলাগুলোর অভিযোগপত্র, ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে তিনি দেখতেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তদন্তের পর অভিযোগপত্র বা ফাইনাল রিপোর্ট প্রথমে মালখানায় জমা দিতে হয়। এরপর একসময় এটি কোর্ট পরিদর্শকের হাতে যায়। অভিযোগপত্র বা ফাইনাল রিপোর্টে কোনো ধরনের ভুল ধরা পড়লে তা সংশোধনের ব্যবস্থা করার দায়িত্বও তার। কোনো ভুল ধরা পড়লেই যেন কপাল খুলত কোর্ট পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাসের। তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ডেকে এনে আইনের মারপ্যাচ দেখিয়ে আদায় করতেন নগদ অর্থ। আবার অনেক তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অহেতুক গালিগালাজ করে নাজেহাল করার ঘটনাও তিনি ঘটিয়েছেন। গেল মাসে তার কাছে এক নারী উপ-পরিদর্শক নাজেহাল হন।পোষাক পরিহিত ওই নারী উপ-পরিদর্শকের সাথে তিনি খারাপ আচরণও করেন। ধমক দিয়ে ওই নারী উপ-পরিদর্শককে বের হয়ে যেতে বলেন কোর্ট পরিদর্শক প্রদীপ। একসময় ওই নারী উপ-পরিদর্শক কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যান। বিষয়টি নিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিকট লিখিতভাবে অবহিত করার পরও রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এভাবে আরও কয়েকজন কর্মকর্তা তার কাছে নিগৃহীত হয়েছেন বলে জানা গেছে। কেবল নিজ বিভাগের অধীনস্থ কর্মকর্তারা-ই নয়; তার কাছে এক সরকারি কৌসুলিও নিগৃহীত হয়েছেন। ওই সরকারি কৌসুলির সাথে লোকজনের সামনে প্রকাশ্যে খারাপ আচরণ করেন প্রদীপ কুমার দাস। হঠাৎ করে পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাসের এমন ঔদ্যত্বপূর্ণ আচরণে ওই অতিরিক্ত পিপি হতভম্ব হয়ে যান। একপর্যায়ে মানসম্মানের ভয়ে সরকারি কৌসুলি প্রদীপ কুমার দাসের কাছ থেকে চলে গিয়ে রক্ষা পান। কোর্ট পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাসের অধীনে এক নারী কনস্টেবল তার সাথে কাজ করতেন। প্রদীপ দাস ওই নারী কনস্টেবলকে রাতে অফিসে থাকার জন্য বলার পর নারী কনস্টেবল প্রদীপ কুমার দাসের অফিস থেকে কোর্টের অন্য শাখায় চলে যান।
কুমিল্লা নগরীর কোতোয়ালি থানার কাদরপাড় লাকসাম রোডের মদন কুমার দাসের পুত্র প্রদীপ কুমার দাস ১৯৮৬ সালের ১০ জানুয়ারি উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিরস্ত্র হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। চাকুরী বিধি অনুযায়ী আগামী বছরের ৩০ ডিসেম্বর স্বাভাবিক অবসর গ্রহণ করবেন। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডেও তিনি বসবাস করেন।
তার সাথে যোগদানকারী উপ-পরিদর্শকদের মধ্য পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারও হয়েছেন একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু, পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাসের বিরুদ্ধে নানা সময়ে নানা অনিয়ম-অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া যায়।
গেল বছরের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফের বাহারছড়ার শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান নিহত হন। সিনহা রাশেদ হত্যাকান্ডের পর ওই বছরের সেপ্টেম্বরে কক্সবাজার থেকে একযোগে ৩৪ পুলিশ কর্মকর্তাকে দেশের বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়। ৩৪ কর্মকর্তার একজন হলেন পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাস। কক্সবাজার কোর্ট থেকে তাকে সিলেট মহানগর পুলিশ এসএমপি’তে বদলি করা হয়। এসএমপি’তে যোগদানের পর কয়েক দিন নগর গোয়েন্দা শাখায় কাজ করলেও পরে সিলেট আদালতে পোস্টিং নেন। আদালতে যোগদানের পর চোখ পড়ে নারী কনস্টেবলদের প্রতি।
গত বুধবার রাতে আদালতে নিজ কক্ষ থেকে নারী কনস্টেবলের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে আটক হন প্রদীপ কুমার দাস। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তোলপাড় শুরু হয়। এসএমপি প্রতিষ্ঠার ১৫ বছরে নারী কনস্টেবলসহ কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। এঘটনায় নগর পুলিশের অভ্যন্তরেও নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ওই নারী কনস্টেবল দিনের বেলায় ৬ দিনের ছুটি নেন। কিন্তু ওই দিন রাতেই পাওয়া যায় পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাসের কক্ষে। কক্ষটির দরজা খোলা থাকলেও বিদ্যুতের বাতি বন্ধ ছিল। দরজা খোলা ও বাতি বন্ধ দেখে এক পুলিশ সদস্য বাতির সুইচ অন করতেই প্রদীপ কুমার দাস ও ওই নারী কনস্টেবলকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ কমিশনার খোকন চন্দ্র সরকারসহ উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা কোর্টে ছুটে যান। খোকন চন্দ্র সরকার নারী কনস্টেবলকে জিজ্ঞাসাবাদও করেন। এ ঘটনায় তিনি পুলিশ কমিশনারের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করেন। তার প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে (প্রদীপ কুমার দাস) প্রত্যাহার করা হয়।
ঘটনার পর নারী কনস্টেবলের ছুটি বাতিল করে তাকে এসএমপি’র পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় নগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সোহেল রেজাকে (পিপিএম) প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দু’ কর্মকর্তা হলেন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) ক্রাইম গৌতম দেব ও কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারি পুলিশ কমিশনার শামসুদ্দিন সালেহ চৌধুরী (পিপিএম)।
এ সকল বিষয়ে কথা বলতে গতরাত সাড়ে ৯ টায় পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাসের (পিপিএম) ব্যক্তিগত সেলফোনে সিলেটের ডাক’র বার্তা কক্ষ থেকে কল দেয়া হয়। কিন্তু তিনি কল রিসিভ করেননি। সূত্র -সিলেটের ডাক কাওছার চৌধুরী।।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
🔻 আরও পড়ুন