1. admin@sylhetbhumi24.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে ৫ প্রতিষ্টানে জরিমানা শ্রীমঙ্গল লোকনাথ মন্দিরে শীত বস্ত্র বিতরণ কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া বন থেকে মানবদেহের কঙ্কাল উদ্ধার কমলগঞ্জে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে অনিয়মের দায়ে ৪ প্রতিষ্টানকে জরিমানা শ্রীমঙ্গলে স্কুলছাত্রের উপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন মৌলভীবাজারে ট্রাফিক পুলিশের জন্য ব্যারাকের উদ্বোধন মৌলভীবাজারে ফিরছে করোনা, নতুন করে আক্রান্ত ২৯ জন কমলগঞ্জে জলাশয় থেকে নারীর মৃতদেহ উদ্ধার বিশ্বভালবাসা দিবসে আসছে চৌধুরী কামাল ও সালমার দ্বিতীয় ভার্সন প্রাণনাথ-২ জাতীয় সংসদে সভাপতিমন্ডলীর তালিকায় প্রথমস্থানে উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি
শিরোনাম :
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে ৫ প্রতিষ্টানে জরিমানা শ্রীমঙ্গল লোকনাথ মন্দিরে শীত বস্ত্র বিতরণ কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া বন থেকে মানবদেহের কঙ্কাল উদ্ধার কমলগঞ্জে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে অনিয়মের দায়ে ৪ প্রতিষ্টানকে জরিমানা শ্রীমঙ্গলে স্কুলছাত্রের উপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন মৌলভীবাজারে ট্রাফিক পুলিশের জন্য ব্যারাকের উদ্বোধন মৌলভীবাজারে ফিরছে করোনা, নতুন করে আক্রান্ত ২৯ জন কমলগঞ্জে জলাশয় থেকে নারীর মৃতদেহ উদ্ধার বিশ্বভালবাসা দিবসে আসছে চৌধুরী কামাল ও সালমার দ্বিতীয় ভার্সন প্রাণনাথ-২ জাতীয় সংসদে সভাপতিমন্ডলীর তালিকায় প্রথমস্থানে উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি

করোনাভাইরাসের নতুন ধরণ ‘ওমিক্রন’র ঢেউ সামলাতে সিলেটে আগেভাগেই জোর প্রস্তুতি

অতিথি প্রতিবেদক দেবব্রত রায় দিপন:
  • সময় : সোমবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৪৬ ৯৮ বার পঠিত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের নতুন ধরণ ‘ওমিক্রন’র ঢেউ সামলাতে সিলেটে আগেভাগেই জোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে প্রশাসন।হাসপাতালে বিশেষ শয্যা ও চিকিৎসক-নার্সদের তৈরী রাখার পাশাপাশি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোতে জোরদার করা হচ্ছে স্কিনিং।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তথা সরকারের ১৫টি নির্দেশনা বাস্তবায়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে শনিবার (০৪ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ প্রতিনিধি টিম সিলেটের একটি স্থলবন্দর সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। আজ রোববার ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর পরিদর্শন করে দিক-নির্দেশনা দেওয়া কথা। পাশাপাশি পরিদর্শনে আসা প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে স্থলবন্দরগুলোর সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করবেন। এমনকি ভারতে ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়লে সিলেটের সব স্থলবন্দর বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারেও বিধিনিষেধ আসতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ওমিক্রন মোকাবেলায় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সিলেটের তিনটি স্থলবন্দর-শুল্কস্টেশনেই কার্যকর রাখা হয়েছে মেডিকেল ক্যাম্প। সেখানে করোনা নেগেটিভ সনদ থাকা যাত্রীদেরও এন্টিজেন কিট দিয়ে প্রাথমিক টেস্ট করা হবে। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল থার্মোমিটার প্রয়োগের পর সন্দেহজনক মনে হলে সরাসরি স্থলবন্দর থেকে পাঠানো হবে খাদিমনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। একইভাবে বিমানবন্দরেও এন্টিজেন কিট দিয়ে প্রবাস ফেরত যাত্রীদের পরিক্ষা সম্পন্ন করা হবে। এক্ষেত্রে ডিজিটাল থার্মোমিটার ব্যবহার করারও নির্দেশ রয়েছে।

ওমিক্রন সংক্রমণ মোকাবেলায় সিলেটের তিনটি বেসরকারি হাসপাতালও নিজেদের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে।করোনার চিকিৎসায় সবচেয়ে বেশি অপরিহার্য অক্সিজেন। এরইমধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন একটি ভবন ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন স্থাপন করা হয়েছে। দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খাদিমপাড়া হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন স্থাপনের কাজ চলছে। সিলেটের সঙ্গে প্রতিবেশি দেশ ভারতের তিনটি স্থলবন্দরের মাধ্যমে পণ্য আমদানি-রফতানির পাশাপাশি যাত্রী আসা-যাওয়া করেন। আর ভারতে ওমিক্রন ধরা পড়ায় পর সীমান্তঘেঁষা সিলেটে দেখা দিয়েছে অজানা আতঙ্ক।এ নিয়ে সিলেটের সব স্থলবন্দরকে জেলা সিভিল সার্জনের দফতর থেকে আগাম বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
করোনাভাইরাস চিকিৎসায় বিশেষায়িত সিলেট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো.মিজানুর রহমান বলেন, ‘করোনার প্রকোপ কমে আসায় ১০০ শয্যার হাসপাতালে এখনও কেবিন, আইসোলেশন এবং ওয়ার্ডে রোগী রয়েছে ১৭ জন। ওমিক্রনের জন্য হাসপাতালটির দুটি ওয়ার্ডকে সম্পুর্ণ ফাঁকা রাখা হয়েছে। ওয়ার্ড দুটির ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৪৮ শয্যা।
ওমিক্রনের জন্য প্রশিক্ষণ বিষয়ে তিনি বলেন, যদিও শুনেছি মন্ত্রণালয় থেকে ওমিক্রন মোকাবেলায় বিশেষ প্রশিক্ষনের নির্দেশনা রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সিলেটে এ রকম কোনো নির্দেশনা এখনও হাতে পৌছেনি। আর করোনাকালীন বিশেষ অভিজ্ঞতা এবং লব্দ প্রশিক্ষণ কাজে লাগানোর মধ্য দিয়ে শামসুদ্দিন হাসপাতাল থেকেই এই চিকিৎসা প্রদান সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, আমরা করোনার জন্য নির্ধারিত শয্যাগুলো কমিয়ে এনেছিলাম। ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ায় এখন আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে প্রস্তুতি নিয়েছি। ন্যাজেল,ক্যানোলা, অক্সিজেন, কনসেন্ট্রেটরসহ করোনার চিকিৎসার যন্ত্রপাতিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত বলেন, ‘ওমিক্রন নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের যে নির্দেশনা তা সিলেটের সব স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যেহেতু ভারতের সঙ্গে আমাদের স্থলপথে যোগাযোগ রয়েছে তাই আফ্রিকা বা ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়া দেশ থেকে ভারত হয়ে সিলেটে কেউ এলে তাকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যারা সীমান্ত দিয়ে আসবেন তাদের প্রবেশের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। উপসর্গ থাকলে কোয়ারেন্টাইনে পাঠাতে হবে।’

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল বলেন, এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকাসহ যেসব দেশে ওমিক্রন ধরা পড়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে সিলেটের কোনো সরাসরি ফ্লাইট নেই। এরপরও কেউ ওইসব দেশ থেকে ঢাকা হয়ে সিলেট এলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হবে।

নর্থ-ইস্ট হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ওমিক্রনের প্রতিরোধে কেবল প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা। সেক্ষেত্রে সফলতার সাথে করোনা মোকাবেলার পর ওমিক্রন প্রতিরোধেও সফল হওয়া কঠিন বিষয় নয়।

তিনি বলেন, নর্থ-ইস্ট হাসপাতাল এ ব্যাপারে পুরো প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং চলতি সপ্তাহেই হাসপাতালটিতে নতুন পিসিআর ল্যাব সংযোজিত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হাওলাদার বলেন, ওমিক্রন নিয়ে ভাবনার কিছু নেই। এই ভয়াবহ ভাইরাসের অস্থিত্ব এখনো আমাদের দেশে পাওয়া যায়নি। সিলেটেও এখন পর্যন্ত ওমিক্রন আক্রান্ত কোনো রোগীর সন্ধান নেই।

প্রস্তুতির ব্যাপারে তিনি বলেন, যেহেতু করোনার ভয়াল থাবা মোকাবেলা করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। একইভাবে ওমিক্রন মোকাবেলায় সিলেট ওসমানী হাসপাতালের সকল প্রস্তুতি রয়েছে। তবে, সবাইকে ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালনের আহবান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভাগীয় পরিচালক ডা.হিমাংশু লাল রায় বলেন, ওমিক্রন আক্রান্তদের প্রবেশরোধে সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিমানবন্দর ও স্থলবন্দর সমূহে সক্ষমতা পরিদর্শন করে কড়া নির্দেশনা আরোপ করা হয়েছে।
২০২০ সালের ৫ এপ্রিল সিলেটে অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয়। এরপর ১৫ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে শনিবার (৪ডিসেম্বর) পর্যন্ত করোনায় চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তাসহ সিলেট বিভাগে এক হাজার ১৮১জনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বমোট ৫৪ হাজার ৯৯২ জন করোনাক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন ৪৯ হাজার ৪২৭ জন।

চলতি বছরের আগস্ট মাসে করোনার প্রকোপ কিছুটা কমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে করোনা রোগীর সংখ্যাও কমে শূণ্যের কোটায় চলে আসে। ফলে হাসপাতালগুলোর কোভিড শয্যা সংখ্যা কমানো হয়।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, সিলেটে করোনা রোগীর চিকিৎসায় বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে নর্থ-ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৮টি, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ২৬টি, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৮টি, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৫টি, পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮টি, নুরজাহান হাসপাতালে ২৩টি ও ওয়েসিস হাসপাতালে ১৩টি সাধারণ শয্যা ছিল। কিন্তু করোনার সংক্রমণ না থাকায় হাসপাতালগুলোর করোনা ইউনিটে সাধারণ রোগীর চিকিৎসা চলছে।

তবে,হাসপাতালগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে প্রয়োজন অনুযায়ী ওমিক্রন মোকাবেলায়ও হাসপাতালের নির্ধারিত শয্যাগুলো প্রস্তুত রাখা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
🔻 আরও পড়ুন