1. admin@sylhetbhumi24.com : admin :
মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০১:৪৭ অপরাহ্ন
নোটিশ :
দুবাই প্রবাসী আশিকের বিশাল সিন্ডিকেট  নারী পাচার, অবৈধ স্বর্ণ ও হোন্ডি ব্যবসা করে রাতারাতি কোটিপতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ালে ব্যবস্থা মনিটরিং করছে পুলিশ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ শরিফ উদ্দিন এর নির্দেশনা শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপত্তায় প্রধান করছে আনসার ভিডিপি মো:ইমরান হোসেন শ্রীমঙ্গলে প্রতিমা বিসর্জন এর মাধ্যমে শেষ হল দুর্গাপূজা আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মাহবুব মিয়ার সমর্থনে জনতার ঢল হুমায়ুন রশিদ চত্তর থেকে ০৩ ছিনতাইকারী গ্রেফতার শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাচনে নৌকার পালে হাওয়া শিক্ষাক্ষেত্রে এখনও আমরা পিছিয়ে আছি : জগন্নাথপুরে পরিকল্পনামন্ত্রী কিশোরী পান্নাকে স্ত্রীর মতো ভোগ করতেন মোবাশ্বির, ক্ষোভ থেকে খুন! সাইবার ট্রাইব্যুনালে গোলাপগঞ্জের হাসিনা আহাদসহ আসামী ৪
শিরোনাম :
দুবাই প্রবাসী আশিকের বিশাল সিন্ডিকেট  নারী পাচার, অবৈধ স্বর্ণ ও হোন্ডি ব্যবসা করে রাতারাতি কোটিপতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ালে ব্যবস্থা মনিটরিং করছে পুলিশ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ শরিফ উদ্দিন এর নির্দেশনা শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপত্তায় প্রধান করছে আনসার ভিডিপি মো:ইমরান হোসেন শ্রীমঙ্গলে প্রতিমা বিসর্জন এর মাধ্যমে শেষ হল দুর্গাপূজা আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মাহবুব মিয়ার সমর্থনে জনতার ঢল হুমায়ুন রশিদ চত্তর থেকে ০৩ ছিনতাইকারী গ্রেফতার শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাচনে নৌকার পালে হাওয়া শিক্ষাক্ষেত্রে এখনও আমরা পিছিয়ে আছি : জগন্নাথপুরে পরিকল্পনামন্ত্রী কিশোরী পান্নাকে স্ত্রীর মতো ভোগ করতেন মোবাশ্বির, ক্ষোভ থেকে খুন! সাইবার ট্রাইব্যুনালে গোলাপগঞ্জের হাসিনা আহাদসহ আসামী ৪

বঙ্গবন্ধু : এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের দৃষ্টিতে

উর্দু থেকে অনুবাদ : সৈয়দ মবনু
  • সময় : শনিবার, ৬ মার্চ, ২০২১
  • ১৪৮ ৯৮ বার পঠিত



(পূর্ব প্রকাশের পর)
ছয়দফা থেকে আগরতলা
ছয়দফার ফমূলা পূর্ব পাকিস্তানের আবহাওয়ায় আকাশ ভেঙে বৃষ্টি ঝরার মতো রূপ ধারণ করে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও যুক্ত হতে থাকে। যদিও কনভেনশন মুসলিমলীগ কেন্দ্রীয় এবং প্রাদেশিক শাসক ছিলো কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের সীমানায় কেন্দ্র কিংবা প্রাদেশিক মুসলিমলীগের কোন নিয়ন্ত্রণ ছিলো না। এটাই বাস্তবতা যে, ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দের যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের বেশিরভাগের চিন্তায় নিজেদেরকে রক্ষার ব্যাপারে যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে তা দূর করার জন্য কার্যকর কিছু করা হয়নি। জনগণ এই ভাবনা শুরু করে দিয়েছে যে, আমরা হিন্দুস্তানের মোকাবেলায় একেবারে দুর্বল। তা হলে কেন তাদের সাথে সংঘাতে যাবো? পশ্চিম পাকিস্তানের অনেক নেতার এই ধারণা ছিলো যে, ‘হিন্দু শিক্ষকেরা ছাত্রদেরকে চিন্তায় প্রভাবিত করে দিয়েছে।’ অথচ এটা একটি ফালতু ধারণা। কারণ, সর্বশেষ যে আদম শুমাড়ি হয়ে সেখানে পূর্ব পাকিস্তানে মোট ৩৫ হাজার শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ছয় হাজার ছিলো হিন্দু। এ ছাড়া বাঙালি মুসলমান যুক্ত বাংলা বা অখন্ড ভারতে হিন্দুদের পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব থাকার পরও লড়াই করেছে। বাঙালি মুসলমানেরা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে পূর্ণাঙ্গ অংশ নিয়েছে, প্রত্যেক নির্বাচনে তারা কংগ্রেসকে পরাজিত করেছে। এখন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর হিন্দুদের উস্কানি এবং প্রভাব কীভাবে গ্রহণ করে নিবে? এই কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন যে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম বাংলা ও আসামের উস্কানীতে প্রভাবিত হচ্ছে। বাঙলার মুসলিমরা হিন্দুদের রাজনৈতিক প্রভাব যেমন মেনে নেয়নি তেমনি গ্রহণ করেনি সামাজিক কর্তৃত্ব।
পূর্ব পাকিস্তানের সমস্যা বুঝার জন্য সরকারের উচিত ছিলো সেখানের জনগণের সাথে মিশা। হোটেল শাহবাগ আর হোটেল ইন্টারক্যান-এ থেকে যদি কোন নেতা মনে করেন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের বিষয়াদি বুঝে ফেলেছেন তাবে অবশ্যই তিনি বোকার রাজ্যে আছেন, কিংবা তিনি সীমা থেকে বেশি আত্মবিশ্বাসের শিকার। যারা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের সমস্যা বুঝতে চেষ্টা করেছেন এবং সমাধানের পথে হাটতে চেষ্টা করেছেন তাদেরকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কিংবা বসে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। উদাহরণ হিসাবে বলতে পারি, জেনারেল আজম খান, এডমিরাল হোসেন প্রমুখের কথা। পূর্ব পাকিস্তানের শেষ প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান খান আমাকে বলেছেন, তাঁকে পশ্চিম পাকিস্তানের একজন শক্তিধর ব্যক্তি বলেছেন, ‘যেহেতু আপনারা আমাদের সাথে মতপার্থক্য করছেন তা হলে পৃথক হয়ে যাচ্ছেন না কেন?’ খান সাহেব বলেন, ‘আমি এই লোকের কথা শোনে কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে যাই। আমি উত্তরে সেই ব্যক্তিকে বলি; প্রত্যেক দেশে মানুষের মধ্যে সমস্যা থাকে, অভিযোগ থাকে, কিন্তু এর অর্থ পৃথক হয়ে যাওয়া নয়। বরং অভিযোগের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে সমস্যার সমাধান করা।’
১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দের যুদ্ধ পূর্ব পাকিস্তানের সংস্কৃতিতে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসে। আমাদের শাসকেরা এই পরিবর্তন বুঝতে ব্যর্থ হলেন এবং তারা তা বুঝার চেষ্টাও করেননি। শেখ মুজিবের ছয়দফা পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছিলো এবং মানুষের মুখে লাগানো তালা ভেঙে গিয়েছিলো। যে ব্যক্তি সেখানে ছয়দফার বিরুদ্ধে কথা বলেছে সে-ই রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে একঘরোয়া হয়ে গিয়েছে এবং তারা লালদিঘী আর পল্টন ময়দান থেকে পৃথক হয়ে হোটেলের চার দেওয়ালে আটকে গেছেন। গভর্নর মোনায়েম খান যেমন পেরেশান ছিলেন, তেমনি হতাশও। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে যে শব্দগুলো প্রেরণ করতেন, বিশেষ করে তাঁর মাহবুব সামরিক শাসক আয়ূব খানকে যে রিপোর্ট দিতেন এতে পূর্ব পাকিস্তানের ব্যাপারে কোন আনন্দের খবর দিতে পারতেন না। মুজিবুর রহমানের ব্যাপারে দেওয়া রিপোর্টে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পাচ্ছে। এই সময় আয়ূব খান তাঁর নারাজ বন্ধু জেনারেল আজম খানের সাথে যোগাযোগ করেন। তাঁকে ক্ষমতা এবং স্বাধীনতা বৃদ্ধি করে দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর করার প্রস্তাব করেন। জেনারেল আজম খান তখন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তিনি কোন স্বৈরশাসক বিশেষ করে সামরিক শাসকের সাথে সহযোগিতা করতে পারবেন না। জেনারেল আজম খানকে শেখ মুজিবুর রহমান যে প্রস্তাব করেছিলেন সে ব্যাপারে তিনি বলেন; সময়ে বিবেচিত হবে।
শেখ মুজিব ২২ মাস জেলে থাকেন। ঢাকায় ঘোষিত হয়েছে আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানকে শুধু যুক্তই নয়, একেবারে প্রধান আসামী করা হয়েছে। এটা একটি দুঃখজনক ঘটনা। যে ব্যক্তি ২২ মাস জেলে বন্দী তাকে একটি মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করে। শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে চালিত মামলা নতুন জীবন লাভ করে। খাজা রফিকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার সাক্ষ্য দিতে জহির উদ্দিন লাহোরে এলে তাঁর সাথে আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলা বিষয়ক কথা বলার সুযোগ হয়। জহির উদ্দিনের স্পষ্ট বক্তব্য ছিলো যে, সরকার সকল আয়োজন করেও শেষ পর্যন্ত শেখ মুজিবকে সাজা দিতে পারবে না। কারণ এই মামলা সম্পূর্ণটাই মিথ্যা এবং তা মোনায়েম খানের মস্তিষ্ক থেকে সৃষ্ট। অতঃপর কিছু পশ্চিম পাকিস্তানী নেতারা তা সত্য প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। আমি জহির উদ্দিনের কাছে প্রশ্ন করলাম; আপনার সাথে অদ্য কি শেখ মুজিবের দেখা হয়েছে? তিনি বললেন; হ্যাঁ দু’বার দেখা হয়েছে। আমি তাঁকে আগের মতোই উজ্জিবিত, ভয়হীন এবং আত্মবিশ্বাসী দেখেছি। এমন কি যখন তাকে নিয়মতান্ত্রিক দোষী সাব্যস্ত করতে আদালতে রিমান্ডের মাধ্যমে জেরার ব্যবস্থা করা হলো তখন মুজিব বললো; পূর্ব পাকিস্তানে কে আছে যে আমাকে চিনে না। আমার জন্য এগুলো হলো বোকামী এবং বাচ্চামী। এই সময় জহির উদ্দিন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় শেখ মুজিবকে দেখাশোনা করার জন্য উকিল প্যানেলে যুক্ত ছিলেন। এই মামলার ব্যাপারে তাঁর অভিজ্ঞতাকে চ্যালেঞ্জ করা মুশকিল ছিলো। কারণ তিনি যেকোন সময় মামলার তত্ত্ববধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন মামলাকে চানবিন করে। একজন উকিলের জন্য রাজনৈতিক মামলার তত্ত্বাবধায়ক হওয়া খুবই কঠিন কাজ। কারণ এমন মামলা হারলে উকিলের কেরিয়ার একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। এখানে ‘রাওয়ালপিন্ডি’ মামলার উদাহরণ দিতে পারি। সেই মামলার উকিল ছিলেন শহিদ হোসেন সোহরাওয়ার্দী। আসামী ছিলেন প্রসিদ্ধ কবি এবং পাকিস্তান টাইমসের ঐতিহাসিক সম্পাদক ফয়েজ আহমদ ফয়েজ। কবি ফয়েজ আহমদ বলেন, এই মামলার আসামী থাকতে আমরা সবাই নির্দোষ হওয়ার উপর পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাসী হওয়ার পরও উদ্বিগ্ন হয়ে যেতাম। যখন সেনাবাহিনীর কামান্ডার ইন চীফ তার সরকারী গাড়ীতে সৈন্য নিয়ে আদালতে আসতো তখন আমরা সবাই চিন্তিত হতাম। আমাদেরকে উদ্বিগ্নতা এবং হতাশা থেকে রক্ষার জন্য আমাদের উকিল সাহেব এমনভাবে কথা বলতেন যেন আমরা চারদিকে বিজয়ের মনি-মুক্তা দেখতে পাই। একবার জেনারেল আয়ূব খান বগেলে জেনারেলি চটি এবং মাথায় জেনারেলি টুপি লাগিয়ে আদালতে প্রবেশ করেন। সোহরাওয়ার্দী তখন নিজে দাঁড়িয়ে আদালতকে উদ্দেশ্য করে বললেন; ‘মাইলড’, সম্মান প্রদর্শনের দুটি পদ্ধতি রয়েছে। একটি পূর্ব পাকিস্তানে অন্যটি পশ্চিম পাকিস্তানে। পশ্চিমের পদ্ধতি হলো সম্মান প্রদর্শনের জন্য টুপি খুলে দেওয়া আর পূর্বের পদ্ধতি হলো জুতা বাইরে রেখে প্রবেশ করা। জেনারেল আয়ূব খানকে বলুন আদালতের সম্মানার্থে সে দুটির যেকোন একটিকে গ্রহণ করতে।’ একথা শোনে জেনারেল আয়ূব খানের চেহারা রাগে লাল হয়ে যায়। সে কিছু বলতে চেয়েছিলো। কিছু ভেবে খামুশ থাকে। পরে আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে গিয়ে আবার ফিরে আসে। আসার সময় টুপি ছিলো তাঁর ডান হাতে এবং চটি বাইরে কারো কাছে দিয়ে আসে।’ ফয়েজ আহমদ ফয়েজের কথা হলো, ‘সোহরাওয়ার্দী এসব করতেন মূলত আমাদের উদ্বিগ্নতা দূর করে সাহস দিতে।’ সেই মামলায় তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন তা আল্লাহর দান। কবি ফয়েজ আহমদ ফয়েজ তাঁর উকিলের প্রশংসা করে একটি কবিতা লিখেন, যা কবি আগা সুরেশের সাপ্তাহিক আদলে ভূমিকা সহ প্রকাশিত হয়। কোন ব্যক্তিকে নিয়ে কবি ফয়েজ আহমদ ফয়েজেন এটা দ্বিতীয় কবিতা। প্রথম কবিতা তিনি লিখেছিলেন আল্লামা ইকবালকে নিয়ে।
আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলা একটু ভিন্ন ছিলো। এখানে আসামী নিজে উকিলদেরকে উৎসাহ বা হিম্মত দিতে মামলা চলাকালিন সময় সাহসী বক্তব্য দিতেন। বিচারপতি এইচ আই রহমান এই ঐতিহাসিক মামলার বিবরণ শোনছিলেন। দেশে আয়ূব খানের বিরুদ্ধে জনমত চলে যাচ্ছে। পূর্ব পাকিস্তানে মিছিল-মিটিং চলছে। পশ্চিম পাকিস্তানের কিছু নেতা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এতটুকু পর্যন্ত বলে দিয়েছেন যে, তাদের আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক করতে সংকোচ হতে হচ্ছে। পূর্ব পাকিস্তানে তা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, সেখানে ছয়দফা ভিত্তিক আওয়ামী লীগ ছাড়া সেখানে কোন আন্দোলন-মিটিং সফল করা তো দূরের কথা কিছু পথ হেঁটে যাওয়াও সম্ভব নয়। এটা এমন এক আশ্চর্যজনক ঘটনা যে, জাতীয় গণতান্ত্রিক সমাজের নেতারা না চাওয়ার পরও ছয়দফার আওয়ামী লীগকে নিজেদের সাথে যুক্ত করতে বাধ্য হয়েছিলেন। সম্ভবত এই কাজের কিছুটা বিলম্ব হতো, কিন্তু ‘এন টি এফ’ নেতারা হঠাৎ দ্রুততার সাথে তা করতে বাধ্য হলেন যখন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভূট্টো ঘোষণা দিলেন যে তিনি আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলায় শেখ মুজিবের উকিল হতে প্রস্তুত। অথচ ইতোপূর্বে তিনি বারবার শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে এই বিষয়ে অনেক কথা বলেছেন। বিতর্কের জন্য চ্যালেঞ্জও করেছেন । কিন্তু যখন তিনি বাতাস পাল্টে যেতে দেখলেন তখন দ্রুত নিজেও বাতাসের সাথে তাল দিতে থাকলেন। অবশ্য তার এই ইচ্ছেকে গ্রহণ করা হয়নি। কারণ, ছয়দফার দাবীদাররা এত সহজ নয় যে ভূট্টোর রাজনৈতিক চালাকি বুঝবেন না। ভূট্টো সাহেব তখন আওয়ামী লীগকে রাজি করাতে লাহোরের হোটেল ইন্টারকান-এ আওয়ামী লীগের সমন্বয়কারি নেতা কামরুজ্জামানকে দাওয়াত করেন। কামারুজ্জামান ভদ্রতার খাতিরে সেখানে যান এবং ভূট্টোকে বলেন, তাঁর প্রস্তাব হাইকামন্ডের সাথে কথা বলে জানাবেন। সেই সময় ভূট্টো কোন শক্তিশালী পার্টির সন্ধানে ছিলেন, যাতে যোগ দিয়ে তিনি পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে নিজের অবস্থান তৈরি করবেন। যখন ‘এন ডি এফ’ নেতাদের এই নতুন রাজনৈতিক জুয়াবাজীর খবর জানা হলো তখন তারা খুব দ্রুত ছয়দফাপন্থী আওয়ামী লীগকেও ঐক্যে যুক্ত করে নিলো। এই সময় এক প্লাট ফরমে এক নামে দুই দল যুক্ত হয়ে যায়। আন্দোলন পরিচালনার স্বার্থে তখন ‘ডেমক্রাটিক একশন কমিটি’ নাম দিয়ে একটি কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটিতে স্বাধীন রাজনীতিবীদদেরকেও যুক্ত করা হলো। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন জেনারেল আজম খান ও এয়ারমার্শাল আসগর খান।
‘ডেমক্রাটিক একশন কমিটি’-র ব্যানারে সারাদেশে মিছিল-মিটিং শুরু হয়ে যায়। এদিকে আয়ূব খান তাঁর পরামর্শদাতাদের পরামর্শে গোটাদেশে নিজের শাসনের দশবছর পূর্তি অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়েছেন। যা দেশের জনগণকে আরও বেশি ক্ষুব্ধ করে দিয়েছিলো। ফলে মানুষ ব্যাপকভাবে বিরোধী দলের আন্দোলনে অংশ নিতে থাকে। পূর্ব পাকিস্তানেও আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে আন্দোলন তীব্রতম হতে থাকে। শাসকেরা বাতাসের গতি অনুভবে বিফল হলেন। বিরোধী দলের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপের কথা বলতে শুরু করেন। পূর্ব পাকিস্তানে শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলার গতি আরও দ্রুত করা হলো। আমি প্রাদেশিক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে ভিসা নিয়ে আবার শেখ মুজিবকে দেখার জন্য পূর্ব পাকিস্তানে যাই। দেখতে যাওয়ার পূর্বে তাঁর জিম্মাদার অফিসার আমার কাছ থেকে কোরআনে হাত রেখে শপথ করালেন যে, আমি যেন শেখ মুজিবের বিষয়ে কিছু না লিখি, ছবি না উঠাই, বিদেশী কোন সংস্থাকে তথ্য না দেই ইত্যাদি। অথচ আমার মোলাকাতের মূল উদ্দেশ্যই ছিলো এই বিষয়গুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা। প্রায় আধাঘন্টা আমাদের রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হয়। সাক্ষাতের সময় আমি দেখতে পাই যে শেখ মুজিবের মাথায় সাদা চুলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে যাচ্ছে। তবে সার্বিক দিকে তিনি ভালো আছেন। চোখের মধ্যে জীবনের চমক এবং চেহরায় উজ্জলতা পূর্ণাঙ্গ রয়েছে। শেখের পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাস ছিলো তিনি বেরিয়ে যাবেন। তবে তিনি সেকথা মানতে পারতেন না যে, আয়ূব খানকে সরিয়ে সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকুক। অথবা কোন দুর্বল শাসক ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হোক। কারণ দুর্বলদের গদি উল্টিয়ে ফেলা খুব সহজ। যদিও এই সময় পর্যন্ত আয়ূব খান বিরোধীদের প্রতি কোন সহনশীলতা প্রদর্শন করেননি। তবে একজন বিজ্ঞ রাজনীতিবীদের মতো সেদিন ছিলো শেখ মুজিবের বক্তব্য; ‘ আয়ূব খান খুব দ্রুত বিরোধীদলের সাথে আপোসে এসে যাবে। এই সময় আমাদের পার্টিকে পশ্চিম পাকিস্তানেও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন এই ব্যাপারে তাজ উদ্দিন আহমদ ও সৈয়দ নজরুল ইসলামের সাথে কথা বলতে। (চলবে)

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
🔻 আরও পড়ুন