1. admin@sylhetbhumi24.com : admin :
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও বিরোধের নিষ্পত্তি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র পক্ষ থেকে কমলগঞ্জে ২০০০ পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন আব্দুস শহিদ এমপি বঙ্গবন্ধু কৃষিক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন : ড. কলিমউল্লাহ সিলেটে তরুণীকে ধর্ষণ, যুবক কারাগারে এসএমপি’র টিলাগড় পুলিশ বক্সের শুভ উদ্বোধনঃ সিলেটে ২১৪ পিস ভারতীয় এনার্জি ড্রিংকসহ ২ জন আটক শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামীলীগ কর্তৃক আয়োজিত নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা প্রস্তুতিতে বর্ধিত কর্মীসভা অনুষ্ঠিত শ্রীমঙ্গল থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ এর সাথে আসক ফাউন্ডেশন শ্রীমঙ্গল এর মতবিনিময় সভা। বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্রে জিয়া  সিলেটে নানক টিকটক-পাবজি-ফ্রি ফায়ার-লাইকি বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের
শিরোনাম :
রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও বিরোধের নিষ্পত্তি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র পক্ষ থেকে কমলগঞ্জে ২০০০ পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন আব্দুস শহিদ এমপি বঙ্গবন্ধু কৃষিক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন : ড. কলিমউল্লাহ সিলেটে তরুণীকে ধর্ষণ, যুবক কারাগারে এসএমপি’র টিলাগড় পুলিশ বক্সের শুভ উদ্বোধনঃ সিলেটে ২১৪ পিস ভারতীয় এনার্জি ড্রিংকসহ ২ জন আটক শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামীলীগ কর্তৃক আয়োজিত নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা প্রস্তুতিতে বর্ধিত কর্মীসভা অনুষ্ঠিত শ্রীমঙ্গল থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ এর সাথে আসক ফাউন্ডেশন শ্রীমঙ্গল এর মতবিনিময় সভা। বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্রে জিয়া  সিলেটে নানক টিকটক-পাবজি-ফ্রি ফায়ার-লাইকি বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের

একাত্তরের মার্চের কিছু স্মৃতি

রফিকুর রহমান লজু
  • সময় : বুধবার, ১০ মার্চ, ২০২১
  • ১২৬ ৯৮ বার পঠিত

আটান্ন সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের ক্ষমতা দখল করার পর সমর নায়ক আইয়ুব খান নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করে যখন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হলেন তখন কেউ ভাবতে পারেননি যে একদিন তাঁর পতন ঘটবে। কিন্তু ইতিহাস বলে কোন স্বৈরশাসকই চিরদিন টিকে থাকতে পারে না। জনতার শক্তির কাছে একদিন তাকে মাথা নত করতেই হয়। ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে আইয়ুব খান ভেবেছিলেন ইতিহাসের এই অমোঘ বিধান মিথ্যা প্রতিপন্ন করে চিরদিন ক্ষমতা ভোগ করে যাবেন। বাঙালি জনগণের উপর আজীবন শোষণ দমন ও নিপীড়ন চালাবার লক্ষ্যে ডিকটেটর আইযুব খান সংগ্রহ করে ছিলেন মোনায়েম খান, আব্দুস সবুর খান, ফজলুল কাদের চৌধুরী’র মতো দোর্দান্ত প্রতাপশালী গণবিরোধীদের। জেল, জুলুম, হুলিয়া এসব ছিল নিত্যদিনের দমননীতি। মানুষকে বোকা বানিয়ে ‘৬৮ সালে ঘটা করে পালন করা হয়েছিল ‘উন্নয়ন দশক, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দিয়ে বাঙালিকে গলাটিপে মারতে চেয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। কোন কিছুতেই কূল পাওয়া যায়নি। ইতিহাসের অমোঘ বিধানের সত্যকে প্রকাশ করে সরে পড়তে হয় আইয়ুব খানকে।
ছাত্র জনতার তুমুল আন্দোলন ও মহান গণ-অভ্যুত্থানের মুখে লৌহ মানব ডিকটেটর স্বঘোষিত ফিল্ড মার্শাল মোহাম্মদ আইয়ুব খান ১৯৬৮ সালে পাকিস্তানের মসনদ থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হন। ক্ষমতা ত্যাগের পূর্বে তিনি আর এক জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খানকে তার উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। আগা সাহেব নির্বাচন দেবার কথা বলে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করে।
নির্বাচনের ফলাফলদৃষ্টে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী ও সাম্রাজ্যবাদী মহলের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠে। বঙ্গবন্ধুকে দিয়ে তাদের কায়েমী স্বার্থের টোপ গেলাতে না পারায় শাসকশ্রেণী নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করে। আগা সাহেব জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান নিয়ে টালবাহানা শুরু করেন। সমগ্র বাঙালি জনসাধারণ ও দেশবাসী এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। আগা সাহেব বাধ্য হয়ে ৩রা মার্চ, ঢাকায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন। কিন্তু মাত্র একদিন আগে ১লা মার্চ দুপুরে এক বেতার ভাষণ মারফতে তিনি অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।
সিলেটের সর্বত্র ছাত্র জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ১লা মার্চ বিকেলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ শহরে মিছিল বের করে এবং পরে রোজিস্ট্রারি মাঠে জনসভায় আগা খানের ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
তখন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) অফিস ছিল কুমার পাড়ায়। সংসদ স্থগিত করার ঘোষণা শুনে ন্যাপ ও ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী ও সমর্থকরা দলে দলে ন্যাপ অফিসে এসে জড় হতে থাকেন। আশপাশের লোকজনও এসে জমায়েতের সংখ্যা আরো বাড়িয়ে দেন। দেখতে দেখতে ন্যাপ অফিস ও সামনের প্রাঙ্গণ প্রতিবাদী লোকে ভরে যায়। আমরা তড়িৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। লোকজন প্রস্তুতই ছিল। আমরা কয়েকজন উদ্যোগ নিলেও মনোভাবের জন্যেই প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। মিছিল রাস্তায় বের হওয়ার পর বন্দর বাজারে পৌছার পূর্বে মিছিল বিরাট আকার ধারণ করে। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের পাশাপাশি আমরা মোড়ে মোড়ে কয়েকটি বিরাট বিরাট পথসভা করি।
ছাত্র ইউনিয়ন পরদিন ২রা মার্চ স্কুল-কলেজে ধর্মঘটের ডাক দেয়। ছাত্রলীগ এই ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন জানায়। ২রা মার্চ স্কুল কলেজে পূর্ণ ধর্মঘট পালিত হয়। ছাত্ররা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালন করে মিছিল করে রেজিস্ট্রারি মাঠে জড়ো হয়। ছাত্র ইউনিয়নের ১০/১৫ জন ছাত্রী কর্মীও এতে উপস্থিত ছিল। রেজিস্ট্রারি মাঠে ছাত্রনেতা রেজওয়ান উদ্দিনের সভাপতিত্বে জনসভায় ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন। ছাত্র ইউনিয়নের শিরিন আক্তারও সভায় বক্তৃতা করেন।
ঐদিন বিকেলে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগ কুমার পাড়ায় এক জরুরি সভায় মিলিত হয়ে করণীয় ঠিক করেন। কেন্দ্র থেকে নির্দেশ না আসা পর্যন্ত যৌথভাবে সভা-সমাবেশ মিছিল হরতাল প্রভৃতি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আরো স্থির হয় যে জরুরি প্রয়োজনে দুই সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
(সংসদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণার প্রতিবাদে এ সময় বঙ্গবন্ধু ২রা মার্চ ঢাকায় এবং ৩রা মার্চ থেকে এক টানা ৬ই মার্চ বেলা ২টা পর্যন্ত সারা পূর্ব পাকিস্তানে হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।)
ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বে ৩রা মার্চ হরতাল পালিত হয়। সকাল থেকে শুরু হয় মিছিল। ক্রমেই মিছিলে মিছিলে ছেয়ে যায় সারা শহর। মিছিল জঙ্গীরূপ ধারণ করে। মিছিলকারী ছাত্র-জনতার কণ্ঠে ‘জয় বাংলা’ ও ‘স্বাধীন পূর্ব বাংলা শ্লোগান ধ্বনিত হয়। মিছিল সারা শহর প্রদক্ষিণ করে। এক পর্যায়ে নয়াসড়কে পাঞ্জাবি সৈন্যদের সঙ্গে মিছিলকারীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। মিছিল জিন্দাবাজার হয়ে জেল রোড দিয়ে যাবার সময় নয়াসড়কস্থ ই.পি.আর ক্যাম্পের কাছে চৌরাস্তার মোড়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষের আশস্কায় ছাত্র ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ এই রাস্তাটি এড়িয়ে চলার প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ এই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় মিছিলটি ঐ রাস্তা দিয়ে এগুতে থাকে। এরকম মিছিল চক্ষের শূল ছিল। আবার মিছিল থেকে কিছুটা উস্কানীও ছিল। ফলে যা আশঙ্কা করা গিয়েছিল তাই হলো : সংঘর্ষের সূত্রপাত হলো। দীর্ঘক্ষণ ঢিল ছুড়াছুড়ি চলে। পাঞ্জাবি সৈন্যরা জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্যে উপরের দিকে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। প্রায় ঘন্টাখানেক সেখানে গন্ডগোল ও জটলা চলে। নেতৃবৃন্দের সীমাহীন চেষ্টার ফলে জনতাকে সেখান থেকে ফেরানো হয়। মিছিল এখানেই ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। অধিকাংশ লোকই নয়াসড়ক থেকে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যায়। এক ক্ষুদ্র অংশ মিছিল সহকারে বন্দরবাজারে যায়। এখানে মিছিলের কর্মসূচি শেষ হয়।
বিকেলে রেজিস্ট্রারি মাঠে ছিল যৌথ জনসভা। কিন্তু ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের অনমনীয় মনোভাবের দরুণ শেষ পর্যন্ত যৌথ জনসভা হয়নি। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ রেজিস্ট্রারি মাঠে জনসভা করে। ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপ বন্দর পয়েন্টে জনসভা করে।
এভাবে সভা-সমাবেশ মিছিল পথসভা করে কাটলো ৬ই মার্চ পর্যন্ত। ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দান করেন। আমরা ভাষণকে স্বাগত জানালাম, শর্তের প্রতি সমর্থন দিলাম। সভা-মিছিল সমাবেশ অব্যাহত রাখলাম।
২৩শে মার্চ ছাত্র ইউনিয়ন ন্যাপের কর্মসূচি ছিল লাঠি মিছিল। শহর ছাড়াও শহরতলী ও অন্যান্য এলাকা থেকে এদিকে অসংখ্য লাঠি মিছিল আসে। সবক’টি যখন একত্র হলো শহর প্রদক্ষিণের জন্যে তখন মিছিলের আকার বিরাট ব্যাপক। সারাক্ষণই মিছিলে জনতার অংশ গ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছিল।
২৩শে মার্চ ছিল ছাত্রলীগের ‘জয় বাংলার’ পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি। এই কর্মসূচির সঙ্গে ছাত্রলীগ শহরে মিছিল করে।
এ সময় সারা পূর্ব পাকিস্তানের মতো সিলেটেও ছিল জনগণের উত্তাল তরঙ্গ। প্রতিদিন মিছিল মিটিং লেগেই ছিল । কোন সংগঠনের কেন্দ্রীয়, কর্মসূচি থাকুক বা না থাকুক পাড়া মহল্লায় মিছিল শ্লোগান সব সময় শহরাঞ্চল গরম রাখতো। ২৪ ও ২৫শে মার্চ এভাবেই কাটে।
২৩শে মার্চের লাঠি মিছিলে জনগণ স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিয়েছিল। জনগণের ব্যাপক অংশ গ্রহণ ও জঙ্গী মনোভাব সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। এরপরে ২৬শে মার্চ শুক্রবার আবার লাঠি মিছিলের কর্মসূচি নেয়া হয়। সিলেট সদর থানা আওয়ামী লীগ এই কর্মসূচি দিয়েছিল। এজন্যে জোর প্রচার ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছি। কিন্তু সে কর্মসূচি পালনের সুযোগ পাওয়া যায়নি। এর পূর্ব রাতেই হানাদার পাকিস্তানী জল্লাদ বাহিনী বাঙালির উপর ঝাপিয়ে পড়ে। নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করে। বীর বাঙালি জাতি তখন বাধ্য হয়েছে লাঠি ফেলে রাইফেল হাতে তুলে নিতে। শুরু হয় সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ, বাঙালি জাতির একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ।
লেখক : শিক্ষক, কলামিস্ট ও সংস্কৃতিকর্মী।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
🔻 আরও পড়ুন

ফেসবুকে আমরা